3 C
New York
Saturday, November 27, 2021
spot_img

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুল মান্নান বীরবিক্রম ফিরছেন নিজ ভূমিতে ***

ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াগ্রামের সূর্য সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুল মান্নান বীরবিক্রম এঁর সমাধি অবশেষে নিজ গ্রামে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হওয়া এই বীরবিক্রম ৫০ বছর ধরে সায়িত ছিলেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার আবুরখিল গ্রামে।

বাবা আব্দুল লতিফ ও মা রাবেয়া খাতুনের চতুর্থ সন্তান ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান। অবিবাহিত আবদুল মান্নান ১৯৭১ সালে পুলিশে (কনষ্টেবল) চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামে বসবাস করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দেশ স্বাধীনের লক্ষ্যে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ করেন ১নং সেক্টরের ঋষিমুখ (চট্টগ্রাম) সাব-সেক্টরে। বেশীরভাগ অপারেশনে তিনিই থাকতেন সবার আগে। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে চটগ্রাম কাপ্তাই সড়কের উত্তর পাশে মদুনাঘাট বিদ্ৎুকেন্দ্রটি ধ্বংস করার এমন নির্দেশে ৬ই অক্টোবর রাতে আবদুল মান্নান সহ আনুমানিক ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা রওনা দেন ল্যস্থলে। শেষ রাতে বিদ্যুত কেন্দ্রটিতে আক্রমন করেন মুক্তিযোদ্ধারা এবং সফলতার সাথে তা ধ্বংসও করেন। কিন্তু দেশ মাতৃকার টানে সেদিন শহীদ হন বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান। গ্রামবাসীরা তাঁর মরদেহ রাউজানের আবুরখিল এলাকার বড়ুয়া পাড়ায় সমাহিত করেন। সেখানেই চির নিদ্রায় শায়িত আছেন ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার নবীনগরেরে সূর্য সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুল মান্নান বীরবিক্রম।

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৮ বছর পর ২০১৯ সালের ২৫ শে জুন নবীনগর থেকে প্রথমবারের মত জোবায়েদ আহাম্মদ মোমেন (ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক নবীনগর) মদুনাঘাটে গিয়ে কবরটি আবিস্কার করেন। কবরটি আবিস্কারের কাহিনী তার প্রকাশিত বই ‘নবীনগরের সূর্য সন্তান’ বইয়ে বিশদভাবে বর্ণনা করেন। যার মাধ্যমে নবীনগরবাসী প্রথমবারের মত এই বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বগাঁথা জানতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুল মান্নান বীরবিক্রম এঁর কবর মদুনাঘাট থেকে নবীনগরে স্থানান্তরের দাবী জোড়ালো হয়ে উঠে।

ইতিমধ্যে বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুল মান্নান বীরবিক্রম এঁর সমাধিস্থল পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। তারই পাশাপাশি তাঁর সমাধিটি নিজ জন্মস্থান নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রামের নোয়াগ্রাম আনার বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখন শুধু নির্ধারিত স্থানে বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুল মান্নান বীরবিক্রম এঁর নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ শেষ হলেই চট্টগ্রামের সেই গহীন অরণ্যে সমাহিত হওয়া নবীনগরের সূর্য সন্তানকে আনা হবে নিজ ভূমিতে এমনটাই জানিয়েছেন বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুল মান্নান বীরবিক্রম এঁর নামে নির্মিতব্য স্মৃতিস্তম্ভটির নির্ধারিত জাগয়া পরিদর্শনে আসা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাকির হোসেন, ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান, ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, নবীনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির, পৌর মেয়র এড. শিব শংকর দাস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার একরামুল ছিদ্দিক, নবীনগর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেনসহ উপস্থিত থাকা জনপ্রতিনিধিগণ।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও পড়ুন